
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা নীহারিকা এনএম জানিয়েছেন, পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি না হওয়ায় এক সময় একটি বড় চলচ্চিত্রের সুযোগ হারাতে হয়েছিল তাঁকে। একই সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের একটি তিন ছবির চুক্তির কারণে বেশ কয়েকটি সফল সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তাঁর প্রথম বলিউড চলচ্চিত্র ‘ভাই তেরা স্টার হ্যায়’ উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নীহারিকা অভিনয়জীবনের শুরুর নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে জনপ্রিয় হওয়ার আগেই অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিতে চেয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যেই মুম্বাইয়ে গিয়ে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রায় তিন বছর প্রশিক্ষণ নেন। পাশাপাশি ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনা এবং থিয়েটারেও কাজ করেন।
তবে বলিউডে শুরুটা সহজ ছিল না। নীহারিকার ভাষ্য, হিন্দি চলচ্চিত্রে নারীদের জন্য প্রচলিত সৌন্দর্যের মানদণ্ড তাঁকে হতাশ করেছিল। পরে তিনি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজের দিকে মনোযোগ দেন এবং স্টোন বেঞ্চ ফিল্মসের সঙ্গে তিন ছবির চুক্তি করেন।
তিনি জানান, ওই চুক্তির সময় দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি বড় ছবির প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার কারণে সেগুলো করতে পারেননি। পরে ছবিগুলো বক্স অফিসে সফল হয়, যা এখনো তাঁর অন্যতম আক্ষেপ।
সাক্ষাৎকারে নীহারিকা আরও জানান, একজন খ্যাতিমান পরিচালকের ছবিতে অভিনয়ের জন্য অডিশন, লুক টেস্ট এবং চুক্তিপত্রে সই পর্যন্ত করেছিলেন। কিন্তু পরে চুক্তিতে থাকা অন্তরঙ্গ দৃশ্যসংক্রান্ত শর্তে আপত্তি জানান।
নীহারিকা বলেন, তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে স্বচ্ছন্দ নন। প্রযোজনা সংস্থা বিষয়টি মেনে নিয়ে বডি ডাবল ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সমাধান কার্যকর হয়নি। সহশিল্পী বডি ডাবলের সঙ্গে দৃশ্যটি করতে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি এমন হয় যে, হয় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে, নয়তো সিনেমা ছাড়তে হবে।
শেষ পর্যন্ত ছবিটি থেকে সরে দাঁড়ান নীহারিকা। পরিচালক বা সহশিল্পীর নাম প্রকাশ না করলেও তিনি বলেন, নিজের ব্যক্তিগত সীমারেখা ও স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গার সঙ্গে আপস করতে চাননি।